gol-table
07

May14

গোল টেবিল আলোচনা-নারীর মানবাধিকার : ঘরে বাইরে সর্বস্তরে

আন্তর্জাতিক নারী দিবস ২০১৫ উপলক্ষে পাক্ষিক অনন্যা কে সঙ্গে নিয়ে আয়োজন করা হয় গোল টেবিল আলোচনা – নারীর মানবাধিকার : ঘরে বাইরে সর্বস্তরে। বিশিষ্টজনরা নারীর মানবাধিকার ও নারীর অস্বীকৃত শ্রম বিষয়ে তাদের মূল্যবান মতামত ব্যক্ত করেন।

একবিংশ শতকে এসে পৃথিবী সবচেয়ে সমৃদ্ধশালী এবং মানবিক হয়েছে বলে বিবেচনা করা হয়। সভ্যতার অগ্রগতিকে আমরা সবসময় ইতিবাচকভাবে দেখে থাকি। এখন প্রশ্ন হলো, এগিয়ে যাওয়ার এই সময়ে মানুষ হিসেবে নারীর মানবাধিকার কতটা প্রতিষ্ঠিত হয়েছে? যা হয়েছে যথেষ্ট কি-না? এমনই এক প্রশ্নের মুখে দাঁড়িয়ে আন্তর্জাতিক নারীদিবস উপলক্ষে ৯ মার্চ মর্যাদায় গড়ি সমতা ও পাক্ষিক অনন্যা যৌথভাবে একটি গোলটেবিলের আয়োজন করে। আলোচনার শিরোনাম ছিল : নারীর মানবাধিকার ঘরে-বাইরে, সর্বস্তরে। গোলটেবিলটি অনুষ্ঠিত হয় পাক্ষিক অনন্যার নিজস্ব অডিটোরিয়ামে।

আলোচনায় অংশ নেন : অ্যাডভোকেট নূরজাহান বেগম মুক্তা, এমপি; মানুষের জন্য ফাউন্ডেশন’র নির্বাহী পরিচালক শাহীন আনাম; মানবাধিকারকর্মী ও ‘নিজেরা করি’ সংগঠনের সমন্বয়কারী খুশী কবির; মানুষের জন্য ফাউন্ডেশন’র প্রকল্প সমন্বয়কারী ও উন্নয়নকর্মী বনশ্রী মিত্র নিয়োগী; রুবাইত ফেরদৌস, গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগ, ঢাবি; শিল্পী ফেরদৌসী প্রিয়ভাষিণী; ওমেন লিডারশিপ প্রজেক্ট’র প্রেসিডেন্ট নাজিয়া আন্দালিব প্রেমা; সাংবাদিক প্রভাষ আমিন; এনজিও কর্মী মনীষা বিশ্বাস; আলোকচিত্রী ও অ্যাক্টিভিস্ট তসলিমা আখতার; মানবাধিকারকর্মী ও নারীবাদী অ্যাক্টিভিস্ট নাহিদ সুলতানা; ডিসি শামিমা বেগম; মহিলা পরিষদের প্রচার ও গণমাধ্যম সম্পাদক কাজী সুফিয়া আখতার; এবিএম মুসা-সেতারা ফাউন্ডেশন’র পরিচালক মরিয়ম মুসাসহ গণমাধ্যমকর্মীবৃন্দ।

শুরুতেই সংসারে নারীর নানামাত্রিক অবদান নিয়ে নির্মিত কয়েকটি টুকরো টুকরো তথ্যচিত্র দেখানো হয়। এরপর আলোচনার মূলপর্ব শুরু হয়। মূলপর্বটি সঞ্চালনা করেন অনন্যা সম্পাদক ও দৈনিক ইত্তেফাকের ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক তাসমিমা হোসেন।
গোলটেবিলে বক্তাদের দেওয়া বক্তব্যের মূল অংশবিশেষ এখানে তুলে ধরা হলো :

খুশী কবির
নারীরা একদিকে সামনে এগিয়ে চলেছে, অন্যদিক থেকে রক্ষণশীল বাতাস ধেয়ে আসছে। নারীরা পুরুষদের সঙ্গে তাল মিলিয়ে সমানতালে অফিসে কাজ করে যাচ্ছে। আমরা বলছি, নারী সমান সুযোগ পাচ্ছে। কিন্তু গৃহস্থালির কাজে কিন্তু নারী-পুরুষ সমানভাবে কাজ করে না। একজন নারী অফিস করে এসে আবার স্বামীর জন্য খাবার ও বাচ্চার দেখভালের দায়িত্ব পালন করছে। পুরুষরা ভাবে, এসব কাজ তাদের নয়। আমাদের মানসিকতার পরিবর্তনটা আগে করতে হবে। অনেক নারী নিজের কর্মদক্ষতায় ব্যক্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠা পাচ্ছে, কিন্তু সামগ্রিকভাবে জাতি হিসেবে নারীরা প্রাপ্য মর্যাদা পাচ্ছে না। প্রথাটাকে ভাঙতে হবে। এসব নিয়ে একজন নারীবাদী হিসেবে কথা বলি বলে অনেকে আমাদের উগ্রবাদী ভাবে। আমি নারীবাদী মানে সমান অধিকার চাচ্ছি। আমি যদি আমার ভেতরে পরিবর্তন না ঘটাতে পারি তাহলে পুরো সমাজটা পাল্টাতে পারবো না। আমার বাড়ি ও কর্মস্থলে যদি পরিবর্তন না আনতে পারি, তাহলে পরিবর্তন হবে না। চিন্তা-দৃষ্টি-কাজের ক্ষেত্রে সমতা না আনলে সমতা আসবে না।

শাহীন আনাম
নারীর প্রতি সহিংসা, বৈষম্য ও সমাজের নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি বদলাতে কাজ করছি। ৮৫ ভাগ নারী পারিবারিক সহিংসতার শিকার হন। এটা শুনে খুব খারাপ লাগে। প্রশ্ন জাগে, তাহলে এতদিন আমরা করলামটা কি? অনেকেই বলে, পৃথিবীর সব জায়গায় হচ্ছে। আমরা দেশ স্বাধীন করেছিলাম সুন্দর-মানবিক একটা রাষ্টের জন্য। ধর্মনিরপেক্ষ, জেন্ডার নিরপেক্ষ সমাজ গঠন করবো বলে। এখন খবরের কাগজ খুলতে পারি না। নারীনির্যাতনের হার ও মাত্রা দেখে গা শিউরে ওঠে। আমরা নিশ্চয় এই পাশবিক সমাজব্যবস্থা থেকে বের হয়ে আসতে চাই। নারীমুক্তি আজ কেবল নারীর মুক্তি নয়, এর সঙ্গে মানবিকতার মুক্তির প্রসঙ্গটিও জড়িত।

নূরজাহান বেগম মুক্তা

২০১১ সালের নারীনীতিতে ধর্মবিদ্বেষী কিছু নেই। তারপরও মৌলবাদী শক্তি এর বিরুদ্ধে লেগে আছে। কারণ নারীনীতি চালু হলে তাদের ধর্মব্যবসা বন্ধ হয়ে যাবে। আমরা বিশ্বাস করি, অবশ্যই ২০১১ সালের নারীনীতি বাস্তবায়ন করতে পারবো। আপনারা দেখবেন, পুরুষরা বাইরে কাজ করে বেতন পায়; কিন্তু নারীরা সংসারে বছরের পর বছর বেতন ছাড়াই কাজ যাচ্ছে। এই কথাগুলো মৌলবাদীরা কখনো উপস্থাপন করে না। দাবিগুলো আমাদেরই তুলতে হবে। পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, বাংলাদেশের পুরুষদের চেয়ে নারীরা পাঁচগুণ বেশি কাজ করে; যার আর্থিক মূল্য মোট জিডিপির ৭৬.৮ ভাগ। অর্থের বিনিময়ে পুরুষ কাজ করে ৬.০৯ ঘণ্টা, নারী ৫.২ ঘণ্টা। গৃহস্থালি কাজে পুরুষ ব্যয় করে ১.৪ ঘণ্টা, নারী ৩.৯ ঘণ্টা।

নাজিয়া আন্দালিব প্রেমা
দেশের কর্মজীবী নারীরা সেভাবে দাঁড়াতে পারছে না। তাদেরকে দাঁড়ানোর জন্য পারিবারিকভাবে তাদের কাজের মূল্যায়ন হতে হবে। পরিবার থেকে নারীদের মনোজগতের পরিবর্তন আনতে সহযোগিতা করা হয় না। আমি একটি প্রগ্রেসিভ ফ্যামিলি থেকে এসেছি, কিন্তু নারী হিসেবে আমার মানসিকতার বিশেষ পরিবর্তন হয়নি। পরিবারে যখন খাবার টেবিলে আলোচনা হয়, তখন আমাকে নিয়ে সবার শেষে কথা হয়। তবে বর্তমানে নারীদের নিয়ে ভালো কিছু উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এগুলোর বাস্তবায়ন জরুরি।

শামীমা বেগম
গত ষোল বছর ধরে আমি পুলিশে কাজ করছি। পুলিশের প্রেক্ষাপট থেকেই আমি বলবো, ১৯৭৪ সালে বাংলাদেশ পুলিশে মাত্র ১৪ জন নারী ছিল। ২০১৫ সালে এসে তা ৭ হাজার অতিক্রম করেছে। পুলিশে মেয়েরা নিজের অবস্থান নিজেই তৈরি করে নিয়েছেন। তবে ১৯৮৮ সালের পর ১৯৯৯ সাল থেকে কোনো পুলিশ নারী নেওয়া হয়নি। এতে করে নারীরা দশ বছর পিছিয়ে গেছে। তবে বর্তমানে নারী পুলিশের সংখ্যা উল্লেখজনকহারে বেড়েছে। নারী পুলিশ দেশেসহ বিশে^র বিভিন্ন শান্তিমিশনে সুনামের সঙ্গে কাজ করে চলেছে। আমার মনে হয়, নারীর নিরাপত্তার কথা ভেবে নারীপুলিশ আরো বাড়ানো যেতে পারে।

রোবায়েত ফেরদৌস
নারীর মূল শত্রু হচ্ছে মৌলবাদ ও পুরুষতন্ত্র। এই দুইয়ে মিলে তৈরি হয়েছে পুরুষমৌলতন্ত্র। বাংলাদেশ মৌলতন্ত্রের দিকে এগোচ্ছে। একুশ শতকে এসেও মেয়েদের কারাগারে বন্দি করে রাখা হয়েছে। কারাগারের নাম হিজাব। একটা কালো কারাগার নিয়ে সে হাঁটছে। কারাগার থেকে বেরিয়ে আসতে মৌলবাদের বিরুদ্ধে লড়াই করতে হবে। মৌলবাদীদের বক্তব্যে কিছু ফাঁক দেখি। তারা বলেছে নারী রোগীদের নারী ডাক্তাররাই দেখবে। পরের বক্তব্যে তারাই বলেছে, মেয়েরা চতুর্থ শ্রেণি পর্যন্ত পড়বে। আমার প্রশ্ন, চতুর্থ শ্রেণি পড়ে একটা মেয়ে ডাক্তার হয় কি করে? এছাড়া পুরুষতান্ত্রিক সমাজ নারীদের সতীত্ব পরীক্ষা করে। মেডিকেল সায়েন্সে সতীত্ব বলে কোনো শব্দ নেই। এটা পুরুষদের নিজের ব্যাকরণে তৈরি। নিজের সন্তান জন্ম দেওয়ার পরও তাকে অভিভাবকত্ব দেওয়া হয়নি। এটা বাস্তবায়ন করতে অনেক বছর আন্দোলন করতে হয়েছে।

তাসলিমা আখতার
নারীরা ঘরে-বাইরে দুই জায়গায় কাজ করছে। অর্থনীতি-শিক্ষায় তারা পিছিয়ে নেই। নারী স্বাধীনতার জন্য এক একটা সময় এক একটা লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। আমরা দেখেছি, রামমোহন রায়ের সময়ে বিধবা-বিবাহ, বেগম রোকেয়ার সময় শিক্ষায় ছিল নারীমুক্তির মূল লক্ষ্য। এখন নারীমুক্তির জন্য অপরিহার্য বলে মনে হয়, নারীর আত্মমর্যাদার প্রতিষ্ঠা পাওয়া। কাল একটি পত্রিকায় বিজ্ঞাপন দেখলাম নারীকে গৃহিণী, প্রেমিকা, শালিকা এমন নানা রূপে উপস্থাপন করা হয়েছে। তখন নিজে একজন নারী হিসেবে খানিকটা অপমানিত বোধ করলাম। নারীর আত্মমর্যাদা প্রতিষ্ঠা করা গুরুত্বপূর্ণ। এখন পর্যন্ত ব্যক্তি হিসেবে নারীর আলাদা কোনো সত্তা নেই বলে বিবেচনা করা হয়। সন্তান জন্ম দিয়েও নারী সেই সন্তানের অভিভাবকত্ব পায় না। সংবিধানে বলা হয়, নারী-পুরুষ সমান কিন্তু বাস্তবে তার প্রয়োগ নেই।

নাহিদ সুলতানা
পুরুষতন্ত্রকে ধাক্কা দিয়ে চ্যালেঞ্জ করতে হবে। ঘরে-বাইরে সবখানেই নারীরা কাজ করে। পুরুষদের চাকরি জীবনের অবসর আছে, নারীর কোনো অবসর নেই। নিজের অধিকার আদায়ের জন্য নারীদের ফাইট করতে হবে। নারীনীতি তৈরি করতে হলে ধর্মনীতি ও পুরুষনীতিকে চ্যালেঞ্জ করতে হবে। একটা পুরুষ কেন বিয়ে করে? নারীর উপর কর্তৃত্ব স্থাপনের জন্য। যেন বউ না পেটালে সে স্বামীই না!

বনশ্রী মিত্র নিয়োগী
আমরা অনেক পরিবর্তন দেখেছি। মর্যাদায় গড়ি সমতা ক্যাম্পেইনের নারীর অবদানের স্বীকৃতির কথা বলছি। অথচ আমরা জানি, মুখে মুখে স্বীকৃতি দেওয়া যায় না। এটাকে বাস্তবে প্রমাণ করে দেখাতে হবে। নারীদের অগ্রগতিকে ছোট করে দেখার কোনো কারণ নেই। নারীরা অর্থনৈতিক কাজে অবদান রাখতে পারে, সেটি আর এখন নতুন কথা নয়। আমরা আশাবাদী নারীরা এগিয়ে যাবে।

ফেরদৌসি প্রিয়ভাষিণী
আমার বাসায় একটা খরগোশ-পরিবার ছিল। একরাতে ওদেরকে গেস্ট রুমে রাখা হলো। রাতে ওঠে দেখলাম, পুরুষ খরগোশটা নিজের গায়ের লোম ছিঁড়ে ছিঁড়ে মেয়ে খরগোশটার আরামের জন্য একটি বাসা তৈরি করছে। পরে তাদের বাচ্চা হলে দেখেছি, নিজের মুখে করে বাচ্চাগুলোকে নিয়ে মায়ের কাছ থেকে দুধ খাইয়ে আবার পাশে সরিয়ে আনে। সারারাত আমি মুগ্ধ হয়ে এসব দেখেছি। আমি তখন উপলব্ধি করলাম, ওদের পরিবারের মধ্যে কতটা সমতা! নারী-পুরুষের সম্পর্ক এমনই হওয়া উচিত।

মনীষা বিশ্বাস
দেশে নারী-পুরুষের বৈষম্য বাড়ছে। মধ্যআয়ের দিকে যখন দেশ যাবে তখন এটা আরো বাড়বে। আমরা বিভিন্ন জায়গায় নারীর ক্ষমতায়নের কথাই বলি। কিন্তু সেখানে নারীর সাইকোলজিক্যাল, সোস্যাল বিষয়গুলো আসে না। আমার মনে হয়, নারীমুক্তির সংজ্ঞাগুলো নির্ধারণ করতে গেলে এই জায়গাগুলো মোটা দাগে চিহ্নিত করতে হবে।

কাজী সুফিয়া আখতার
মৌলবাদের জন্য নারীরা এগোতে পারছে না। সংসারের বিশটা কাজের মধ্যে আঠারোটা নারীরা করে। নারীর অধিকারের জন্য আমাদের লড়াই করে যেতে হবে।

প্রভাষ আমিন
সকলে সেই মেয়েটাকে অফিসে আসার আগে কাজ করে অফিসে আসতে হয়। আবার ঘরে ফিরে কাজ করতে হয়। অফিসে ও বাসায় কাজ করেও স্বীকৃতি পায় না সে। আমার মনে হয়, সেই স্বীকৃতি পেলে আর বেশিদিন অপেক্ষা করতে হবে না। তবে সামগ্রিকভাবে নারী-পুরুষ সমান হতে আরো সময় লাগবে। আমাদের এই মানবিক আন্দোলনটা চালিয়ে যেতে হবে।

তাসমিমা হোসেন

নারীদের সামগ্রিকভাবে মুক্তির জন্যে দরকার পুরুষের কর্তৃত্ববাদী সমাজব্যবস্থা থেকে বের হয়ে আসা। পুরুষ জানে, নারীকে আর পিছিয়ে রাখা যাবে না। তাদের অনেকে এটা মেনে নারীদের সহযোগিতা করার জন্যে এগিয়ে এসেছেন। যারা আসছেন না, হয় একটা ভ্রান্তবিশ^াস তাদের ভেতর এখনো আছে, নয়তো তাদের ইগোর কারণে এখনো নারীইস্যুতে নীরব আছেন। আমার মনে হয় সব নীরবতা ভাঙার সময় এসেছে। এজন্যে নারীদের এখন নিজ নিজ ক্ষমতা বুঝে নিতে হবে। নারীনির্যাতন শুধু নিম্ন বিত্তদের মধ্যেই হয় না। উচ্চবিত্তদের মধ্যেও হয়। ওদের নির্যাতনটা আরো বেশি। অথচ চেপে রাখতে হয়। বাচ্চা নিয়ে গ্রামের মেয়েদের মতো বাড়ি থেকে বের হয়ে আসা যায় না। প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, ধর্মে নারীকে ছোট করে দেখা হয়নি। এই প্রথম কোনো প্রধানমন্ত্রী নারী অধিকার নিয়ে এভাবে কথা বলছেন। আমাদের প্রধানমন্ত্রীর যথেষ্ট সদিচ্ছা আছে। আমরা যদি সবাই সচেষ্ট থাকি, তবে অবশ্যই এগোতে পারব।